সড়কে আটকে স্বামী ও প্রসূতিকে মারধর, হাসপাতালের গেটেই মৃত সন্তান প্রসব
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০৯-২০২৬ ০৪:৩৮:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৯-২০২৬ ০৪:৩৮:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বেগমকে। কিন্তু ভাঙা সড়কে আড্ডা দেওয়া কয়েক যুবককে পথ ছেড়ে দিতে বলায় তার স্বামীকে মারধর ও ইজিবাইকের চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তানিয়ার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি করা হয়। একপর্যায়ে পেটে আঘাত লেগে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর রক্তপাত শুরু হলেও স্বামী-স্ত্রীকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
পরে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সহযোগিতায় তারা ছাড়া পেলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তানিয়ার প্রসববেদনা শুরু হয়। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। তানিয়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের বেতমোর গ্রামের কৃষক হাবিব পাহলানের স্ত্রী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে তানিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীসহ স্বজনরা তাকে ইজিবাইকে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ভাঙা সড়কে কয়েক যুবক আড্ডা দিচ্ছিল। ইজিবাইক চলাচলের জন্য তাদের সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
হাবিব পাহলান বলেন, “স্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে তাদের সরে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা গাড়ির চাবি নিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তার পেটে আঘাত লাগে। স্ত্রীর রক্তপাত শুরু হলেও আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।”
তিনি আরও জানান, তার বাবা দুলাল হাওলাদার মেয়ের এমন অবস্থা দেখে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে পৌঁছালে গেটের সামনে সন্তান প্রসব করেন তানিয়া। তবে চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।
চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, কয়েকজন বখাটের কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। তিনি তানিয়া, তার স্বামী ও বাবার চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে এসেছেন। বখাটেদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এহসানুল হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আরও আগে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর সুযোগ থাকত। তানিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স